আমরা জানি,
নিজ স্ত্রী ব্যতীত অন্য কারো সাথে সহবাসে লিপ্ত হওয়া হারাম। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, এমন কিছু সময় ও পদ্ধতি রয়েছে, যখন নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও ইসলামে হারাম বা নিষিদ্ধ।
❑ ইসলামে যেসব অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হারাম:
১. হায়েজ ও নেফাস অবস্থায়:
স্ত্রীর মাসিক (হায়েজ) চলাকালীন সহবাস করা সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন—
"আর তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে হায়েয সম্পর্কে। বলে দিন, এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রী-গমন থেকে বিরত থাক।" [সূরা বাকারা, আয়াত: ২২২]
তেমনিভাবে সন্তান জন্ম হওয়ার পর যে রক্তস্রাব (নেফাস) হয়, সেই সময়েও সহবাস করা হারাম। তবে রক্ত বন্ধ হয়ে পবিত্র হওয়ার পর সহবাস করা যাবে।
২. রোজা অবস্থায়:
রমজানের ফরজ রোজা রেখে দিনের বেলা স্ত্রী সহবাস করা হারাম। কেউ যদি রোজা অবস্থায় সহবাস করে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে এবং তাকে কঠিন কাফফারা (টানা ৬০টি রোজা রাখা বা সমপরিমাণ দান করা) দিতে হবে। তবে ইফতারের পর থেকে সাহরি পর্যন্ত সহবাস করা সম্পূর্ণ জায়েজ।
৩. স্ত্রীর পিছনের রাস্তায় (মলদ্বারে) সহবাস:
এটি একটি অত্যন্ত নোংরা এবং বিকৃত কাজ। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন—
“যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর পায়ুপথে সহবাস করে, আল্লাহ তার দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না।” [তিরমিজি, হাদিস নং-১১৬৫]
এটি লানতপ্রাপ্ত এবং অভিশপ্ত কাজ, যা থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে।
৪. এহরাম অবস্থায়:
হজ বা ওমরাহ পালনকালে এহরাম পরা অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা হারাম।
💡 শেষ কথা:
ইসলাম আমাদের পবিত্রতা এবং সঠিক জীবন ব্যবস্থা শেখায়। লজ্জা পেয়ে ভুল পথে না চলে সঠিক নিয়ম জানা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হালাল ও পবিত্র পথে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।
💡 কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ:
দ্বীনি বিষয় নিয়ে লজ্জা না করে সঠিক মাসয়ালা জানা আমাদের দায়িত্ব।
পবিত্রতা বজায় রাখা ঈমানের অঙ্গ।
সবসময় হালাল এবং পবিত্র পন্থায় জীবন অতিবাহিত করার চেষ্টা করুন।
সম্পাদনায়: Daily Tech News
ভিজিট করুন: Dailynewspaper26.blogspot.com


0 Comments