একসময় পুরো পৃথিবী দৌড়াচ্ছিল… Temple RUN গেম খেলেনাই এমন কেউ আছেন? এখনো প্লে স্টোরে আছে, কিন্তু কেউ খেলে না কেনো? কি হলো টেম্পল রানের?
![]() |
| temple run banner |
টেম্পল রান (Temple Run) — আমাদের প্রজন্মের এমন কেউ নেই যে এই গেমটির নাম শোনেনি বা একবারের জন্য হলেও খেলেনি। স্মার্টফোনের শুরুর দিনগুলোতে এই গেমটি ছিল এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এক বিলিয়ন ডাউনলোডের মাইলফলক ছোঁয়া এই গেমটি আজ কেন তালিকার শীর্ষ ৫০-এও নেই? চলুন সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক টেম্পল রানের সেই অবিশ্বাস্য উত্থান এবং করুণ পতনের গল্প!
টেম্পল রান আসলে আমাদের প্রজন্মের জন্য শুধু একটা গেম ছিল না, এটা ছিল স্মার্টফোন যুগের শুরুর দিকের এক বিশাল উন্মাদনা। তখন সবার হাতে কেবল টাচস্ক্রিন ফোন আসা শুরু করেছে আর সেই সময়ে এই গেমটি ছিল এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্কুল বা কলেজের টিফিনের ফাঁকে কিংবা বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বসলেই চলত সেই বিখ্যাত দানবীয় বানরগুলোর হাত থেকে বাঁচার লড়াই।
গেমটির সেই চিরচেনা মিউজিক আর ফোন ডানে-বামে কাত করে বাঁক নেওয়ার যে অনুভূতি, তা আমাদের এক নতুন অভিজ্ঞতার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। আমাদের মধ্যে রীতিমতো একটা নীরব প্রতিযোগিতা চলত যে কার স্কোর কত বেশি বা কে কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে। যদিও আমরা জানতাম এই দৌড়ের কোনো শেষ নেই, তবুও এক অদ্ভুত নেশায় আমরা বারবার সেই মন্দিরের দেয়াল বেয়ে দৌড়াতাম।
এখনকার গ্রাফিক্স বা ফিচারের গেমগুলোর ভিড়ে হয়তো টেম্পল রান কিছুটা আড়ালে চলে গেছে, কিন্তু সেই সময়ে এটি আমাদের যে নির্মল আনন্দ দিয়েছিল তা ভোলার মতো নয়। ফোন চার্জে বসিয়ে গেমটি খেলার জন্য অপেক্ষা করা কিংবা কোনো বাধা টপকাতে গিয়ে ভুল করে পড়ে যাওয়ার সেই আফসোস—সবই এখন এক সুন্দর স্মৃতি হয়ে আছে। সত্যিই, আমাদের প্রজন্মের কাছে এটি কেবল একটি অ্যাপ নয়, বরং একটা সোনালী সময়ের প্রতীক।
🎯 অনেকেই জানেন না Temple Run প্রথমে iOS গেম ছিলো, আর শুরুতে এইটা পেইড গেম ছিলো! গল্পটা শুরু ২০০৮ সালে। নাটালিয়া লাকিয়ানোভা এবং কিথ শেপার্ড নামের এক দম্পতি ‘ইমাঞ্জি স্টুডিওস’ (Imangi Studios) প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে তারা বেশ কিছু গেম বানিয়েছিলেন, যা ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হয়। এরপর ২০১১ সালের ৪ আগস্ট তারা আইওএস (iOS) প্ল্যাটফর্মে লঞ্চ করেন টেম্পল রান!
‼️ পেইড গেম হিসেবে এটি মোটামুটি চললেও, ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ডেভেলপাররা একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নেন — তারা গেমটিকে সবার জন্য ফ্রি করে দেন। ব্যাস, ইতিহাস ওখানেই তৈরি হয়ে গেল!!!
এটি অ্যাপ স্টোরের ১ নম্বর ফ্রি অ্যাপে পরিণত হয়। অ্যান্ড্রয়েডে আসার পর মাত্র তিন দিনেই ১ মিলিয়ন মানুষ এটি ডাউনলোড করে। এইটাই এন্ড্রয়েডের এর পাওয়ার
💪সেই সময় খুব কম গেমের মধ্যে Temple RUN একটা গেম ছিলো যেটা 1 Billion ডাউনলোড সম্পূর্ণ করেছিলো! Temple RUN 1 এবং Temple RUN 2 ছিলো কোম্পানিটির বিগ সাক্সেস!
⚠️ তবে ঠিক ঐ মুহূর্ত থেকেই Temple রানের পতন শুরু হয়, যেটা কেউই বুঝতে পারে নাই! এতটা আকাশচুম্বী সাফল্যের পরও গেমটি কেন মুখ থুবড়ে পড়ল? এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে:
👉 টেম্পল রান ২-এর পর নির্মাতারা গেমটিকে আর নতুনভাবে সাজাতে পারেননি। ২০১৬ সালের দিকে তারা ‘ট্রেজার হান্টার্স’ বা ‘আইডল এক্সপ্লোরারস’-এর মতো পাজল গেম বানাতে শুরু করেন, যা ফ্যানরা একদমই গ্রহণ করেনি। মানুষ টেম্পল রান খেলতে চেয়েছিল, পাজল নয় ভাই!
👉 টেম্পল রান জনপ্রিয় হওয়ার সাথে সাথে বাজারে ‘টেম্পল জাম্প’ বা ‘জম্বি রান’-এর মতো শত শত নকল গেম চলে আসে। এতে করে আসল গেমটির বিশেষত্ব হারিয়ে যায়। এমনকি Subway Surfers এর মতো গেমগুলো টেম্পল রান থেকে কপি পেস্ট হলেও তারা নিয়মিত আপডেট দিয়ে টেম্পল রানকে পেছনে ফেলে দেয়। Subway Surfers টেম্পল রান থেকে পরে অনেক অনেক বেশি পপুলার হয়ে উঠে!!
👉 যেখানে সাবওয়ে সারফার্স প্রতি মাসে নতুন ম্যাপ বা নতুন শহর নিয়ে হাজির হতো, সেখানে টেম্পল রান ছিল অনেক বেশি একঘেয়ে।
⭕ আজকাল হাইপার-ক্যাজুয়াল গেমের ভিড়ে টেম্পল রান তার আগের জৌলুস হারিয়েছে। তবে গেমারদের হৃদয়ে এটি সবসময় প্রথম ‘থ্রিডি এন্ডলেস রানার’ হিসেবে জায়গা করে থাকবে! পোস্ট টা শেষ করেই টেম্পল রান ডাউনলোড দিয়ে একটু খেলে তারপরেই ঘুমাবো 😀
টেম্পল রান নিয়ে কার কি স্মৃতি জড়িয়ে আছে, আমাদের কমেন্ট সেকশনে জানান ❤️
#TempleRun

0 মন্তব্যসমূহ