মাইক্রোসফট এক্সেল (Microsoft Excel) মাস্টারক্লাস: শূন্য থেকে শুরু করার পূর্ণাঙ্গ গাইড (ছবিসহ)
লিখেছেন: Daily Tech News
ওয়েবসাইট: Daily Tech News
আসসালামু আলাইকুম। টেক দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম। আপনি যদি স্টুডেন্ট হোন, চাকরিপ্রার্থী হোন বা নিজের ব্যবসার হিসাব রাখতে চান কম্পিউটারের একটি দক্ষতা আপনার জীবনকে অনেক সহজ করে দিতে পারে। আর সেটি হলো Microsoft Excel। অনেকেই এক্সেলের নাম শুনেই ভয় পান, ভাবেন এটি শুধু গণিতবিদদের কাজ। কিন্তু বিশ্বাস করুন, বেসিক কিছু জিনিস জানলে এক্সেল আপনার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠবে।
আজকের এই পোস্টে আমরা এক্সেলের একদম জিরো থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।
Tabel of content
অধ্যায় ১: মাইক্রোসফট এক্সেল আসলে কী এবং কেন শিখবেন?
অধ্যায় ২: এক্সেল ইন্টারফেসের সাথে পরিচিতি (ভিতরের জগত)
অধ্যায় ৩: ডাটা এন্ট্রি এবং সাধারণ হিসাব (প্রথম ধাপ)
অধ্যায় ৪: অটো-ফিল (Auto-Fill) এবং কুইক টিপস
অধ্যায় ৫: ডাটা ফিল্টার এবং পেজ সেটআপ (প্রো টিপস)
অধ্যায় ১: মাইক্রোসফট এক্সেল আসলে কী এবং কেন শিখবেন?
সহজ কথায়, মাইক্রোসফট এক্সেল হলো একটি স্প্রেডশিট (Spreadsheet) প্রোগ্রাম। এটি এমন একটি ডিজিটাল খাতা যেখানে হাজার হাজার ঘর বা সেল (Cell) থাকে। যেখানে আপনি তথ্য জমা রাখতে পারেন, জটিল সব হিসাব কয়েক সেকেন্ডে করতে পারেন এবং সেই তথ্যগুলোকে সুন্দর গ্রাফ বা চার্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে পারেন।
![]() |
| এক্সেল হলো আধুনিক যুগের ডিজিটাল হিসাবরক্ষক। |
কেন এক্সেল শেখা আপনার জন্য অপরিহার্য?
১. চাকরির বাজারে অপরিহার্য: ডাটা এন্ট্রি থেকে শুরু করে ম্যানেজার—সব পজিশনেই এক্সেল জানা লোকদরকার।
২. ব্যক্তিগত হিসাব: আপনার মাসের খরচ, ডিপিএস বা লোনের হিসাব সহজেই রাখতে পারবেন।
৩. ডাটা ম্যানেজমেন্ট: হাজার হাজার কাস্টমার বা স্টুডেন্টের তথ্য গুছিয়ে রাখা যায়।
অধ্যায় ২: এক্সেল ইন্টারফেসের সাথে পরিচিতি (ভিতরের জগত)
এক্সেল ওপেন করার পর আপনি যে স্ক্রিনটি দেখেন, সেটির প্রধান অংশগুলো চিনে নেওয়া জরুরি। একে বলা হয় Workbook।
![]() |
| এক্সেল ইন্টারফেসের প্রধান অংশসমূহ। |
১. Row (সারি): এগুলো বাম থেকে ডানে আড়াআড়িভাবে থাকে। এগুলোকে ১, ২, ৩... সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়।
২. Column (কলাম): এগুলো উপর থেকে নিচে লম্বালম্বি থাকে। এগুলোকে A, B, C... অক্ষর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়।
৩. Cell (সেল): একটি রো এবং একটি কলাম যেখানে মিলিত হয়, তাকে সেল বলে। প্রতিটি সেলের একটি নাম থাকে। যেমন: A কলাম এবং ৫ নম্বর রো এর মিলনস্থল হলো A5 সেল।
৪. Formula Bar: এটি পেজের উপরে থাকে। আপনি যখন কোনো সেলে কিছু লিখবেন, তা এখানেও দেখা যাবে। বিশেষ করে কোনো ফর্মুলা লিখলে তা এখানে পরিষ্কার দেখা যায়।
অধ্যায় ৩: ডাটা এন্ট্রি এবং সাধারণ হিসাব (প্রথম ধাপ)
এক্সেলে তথ্য ইনপুট দেওয়া খুব সহজ। জাস্ট যেকোনো সেলে ক্লিক করুন এবং টাইপ করা শুরু করুন। এক সেল থেকে অন্য সেলে যেতে কিবোর্ডের Arrow Keys বা Tab বাটন ব্যবহার করুন।
যোগ-বিয়োগের যাদু (The Power of =):
এক্সেলে যেকোনো গাণিতিক হিসাব বা ফর্মুলা লেখার আগে অবশ্যই = (সমান) চিহ্ন দিতে হবে। নতুবা এক্সেল এটিকে সাধারণ লেখা মনে করবে।
![]() |
| ফর্মুলা লেখার আগে অবশ্যই = চিহ্ন দিতে হবে। |
সাধারণ একটি যোগফল বের করা:
ধরা যাক, A1 সেলে ১০ এবং A2 সেলে ২০ আছে। আপনি A3 সেলে এদের যোগফল চান।
অধ্যায় ৪: অটো-ফিল (Auto-Fill) এবং কুইক টিপস
এক্সেলের সবচেয়ে চমৎকার একটি ফিচার হলো Auto-Fill। এটি আপনার অনেক সময় বাঁচিয়ে দেবে।
![]() |
| অটো-ফিল ফিচার ব্যবহার করে দ্রুত সিরিয়াল নম্বর তৈরি। |
কিভাবে করবেন?
১. প্রথম সেলে ১ এবং দ্বিতীয় সেলে ২ লিখুন।
২. দুটি সেল সিলেক্ট করুন।
৩. ডানপাশের নিচের কোণায় মাউস নিলে একটি কালো + চিহ্ন আসবে।
৪. এবার মাউস চেপে ধরে নিচের দিকে টেনে আনুন। দেখবেন অটোমেটিক ৩, ৪, ৫... নম্বর পড়ে গেছে। এটি বার, মাস বা তারিখের ক্ষেত্রেও কাজ করে।
অধ্যায় ৫: ডাটা ফিল্টার এবং পেজ সেটআপ (প্রো টিপস)
আপনার কাছে যদি ১০০ জন মানুষের তথ্য থাকে এবং আপনি শুধু ঢাকা শহরের মানুষদের দেখতে চান, তখন Filter ব্যবহার করবেন।
![]() |
| ডাটা ফিল্টার ব্যবহার করে নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজে বের করা। |
কিভাবে ফিল্টার করবেন?
- আপনার টেবিলের হেডলাইনগুলো সিলেক্ট করুন।
- উপরে Data > Filter এ ক্লিক করুন। হেডলাইনগুলোর পাশে ছোট অ্যারো চিহ্ন আসবে।
- সেখানে ক্লিক করে আপনি নির্দিষ্ট তথ্য বেছে নিতে পারবেন।
পেজ সেটআপ এবং প্রিন্ট:
এক্সেলে প্রিন্ট করার সময় প্রায়শই পেজ কাটা পড়ে। এটি এড়াতে:
- View > Page Break Preview এ যান। এখানে নীল দাগ দিয়ে আপনি দেখতে পাবেন কতটুকু এক পেজে প্রিন্ট হবে। মাউস দিয়ে টেনে এই নীল দাগ বড় বা ছোট করতে পারেন।
কীবোর্ড শর্টকাট ーলিস্ট (Begineer Special)
কাজের গতি বাড়াতে এই শর্টকাটগুলো মুখস্থ করে ফেলুন:
- Ctrl + S: ফাইল সেভ করা (প্রতি ৫ মিনিট পর পর এটি চাপুন)।
- Ctrl + Z: ভুল করলে এক ধাপ পেছনে যাওয়া।
- Ctrl + C / V: কপি এবং পেস্ট।
- Ctrl + Arrow Keys: এক্সেলে অনেক দূরে থাকা সেলে দ্রুত চলে যাওয়া।
- Alt + =: অটোমেটিক যোগ করার ফর্মুলা বসানো (Auto-Sum)।

কীবোর্ড শর্টকাট ーলিস্ট (Begineer Special)
এখন আপনার পালা!
মাইক্রোসফট এক্সেলের এই বিশাল জগত এক দিনে শেখা সম্ভব নয়। তবে আজকের এই পোস্টে আমরা যা শিখেছি, তা দিয়ে আপনি সহজেই ছোটখাটো হিসাব এবং ডাটা এন্টির কাজ শুরু করতে পারবেন। প্রযুক্তির এই যুগে এক্সেল জানা আপনার জন্য একটি বিশাল সম্পদ।
![]() |
| নিয়মিত প্র্যাকটিস করলেই আপনি এক্সেল এক্সপার্ট হতে পারবেন। |
আপনার যদি এক্সেলের কোনো নির্দিষ্ট ফর্মুলা (যেমন: VLOOKUP বা IF) বা কাজ নিয়ে সমস্যা থাকে, তবে কমেন্টে জানান। Daily Tech News সবসময় চেষ্টা করে আপনাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে বাড়িয়ে দিতে। ভালো থাকুন, প্রযুক্তির সাথে আপডেট থাকুন।
ধন্যবাদান্তে,
টিম Daily Tech News
ইউআরএল: Daily Tech News
ইউআরএল: Tech News 24
© ২০২৬ - আপনার নির্ভরযোগ্য টেক পার্টনার






0 মন্তব্যসমূহ